লাইফস্টাইল

চা কি সত্যিই কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে?

সংগৃহীত ছবি

বিশ্বের জনপ্রিয় পানীয়গুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে চা। এটি অনেক জনপ্রিয় হলেও অনেকেই কিছুক্ষণ পরপর বা ঘন ঘন পান করে থাকেন। অতিরিক্ত চা পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, যা খুব কম সংখ্যক মানুষই জানেন। বিশেষ করে কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে অতিরিক্ত চা পানের অভ্যাস।

পরিমিত পরিমাণ চা পান সাধারণত নিরাপদ। এর নানা উপকারিতাও রয়েছে। কিন্তু চা পান যখন অতিরিক্ত অভ্যাসে পরিণত হয়, তখনই ঘনিয়ে আসে বিপদ। তখন কিডনির কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে এই চা পানের অভ্যাস। অনেকেরই ধারণা, বারবার চা পানের কারণে কিডনিতে পাথর হয়। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আটলান্টিক ইউরোরজি ক্লিনিক। তাহলে এ ব্যাপারে জেনে নেয়া যাক-

প্রতিদিন লাখো মানুষ চা পান করেন। সকালের নাশতায়, বিকেলের আড্ডায় বা অফিসে কাজের ফাঁকে কিংবা সন্ধ্যায় বিশ্রামের সময়, যেকোনো সময়ই চা পান করা হয়। কেউ কেউ আবার অতিরিক্ত চা পান করেন। তবে যারা স্বাস্থ্য সচেতন, তাদের খুবই সাধারণ প্রশ্ন- চা কি কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে?

কিডনিতে পাথর কী:
কিডনিতে তখনই পাথর তৈরি হয়, যখন প্রাকৃতিকভাবে প্রস্রাবে লবণ এবং খনিজ পদার্থ একসঙ্গে জমাট বেঁধে শক্ত হয়। এসব কিডনির মধ্যে হয়ে থাকে। পাথরগুলো মূত্রনালীতে চলে গেলে তখন আটকে যেতে পারে। এ কারণে ব্যথা এবং প্রস্রাবের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিডনিতে পাথর হওয়ার পেছনে নানা কারণ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ডায়েট, দীর্ঘস্থায়ী পানিশূন্যতা, জেনেটিক্স ও চিকিৎসাগত পরিস্থিতির কারণ। তবে কিডনিতে হওয়া পাথরের নানা ধরন রয়েছে। ক্যালসিয়াম অক্সালেট পাথর খুবই সাধারণ। এসব চা পানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকতে পারে।

চা কি কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে:
অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে চা কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে না। তবে চা পান করলে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে অতীতে যদি ক্যালসিয়াম অক্সালেট কিডনিতে পাথর হয়ে থাকে, তাহলে এটি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চায়ে মাঝারি থেকে উচ্চ মাত্রার অক্সালেট থাকে। এসব যখন নির্গত হয়, তখন এসব প্রস্রাবে ক্যালসিয়ামের সঙ্গে আবদ্ধ হতে পারে। ফলে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি হয়।

চা যদিও কিডনিতে পাথর সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সঙ্গে অন্যান্য ঝুঁকির কারণগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। এর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণ বা পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম গ্রহণ না করা। আবার চিনিযুক্ত পানীয় পান করা এবং এবং পানিশূন্যতাও কিডনিতে পাথর সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কিডনিতে পাথর এড়াতে চা পানকারীদের করণীয়:
পরিমিত পরিমাণ চা পান করা:
চা পানের মাধ্যমে অনেক পুষ্টিকর স্বাস্থ্য উপকারিতা মিলে। কিন্তু কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকলে, ঝুঁকি এড়াতে ১-২ কাপ চা পানে সীমিত থাকার চেষ্টা করুন।

নিম্ন-অক্সালেটযুক্ত চা নির্বাচন:
সবুজ, সাদা ও ভেষজ চায়ে কালো চা’র তুলনায় কম পরিমাণ অক্সালেট থাকে। যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি থাকা ব্যক্তিদের জন্য দুর্দান্ত বিকল্প উপায় হতে পারে।

প্রচুর পরিমাণ তরল পান করা:
চা পান করার আগে ও পরে প্রচুর পরিমাণ পানি পানের অভ্যাস করলে এটি ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলা:
খাবারে অতিরিক্ত চিনি থাকলে তা কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। খাদ্যতালিকায় চিনির পরিমাণ কমিয়ে এনে কিডনিতে পাথরের সম্ভাবনা কমাতে পারেন।

সুষম খাদ্য গ্রহণ:
বিভিন্ন ধরনের তাজা ফল, শাকসবজি ও গোটা শস্যসহ সুষম খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস করুন। এসব সামগ্রিক স্বাস্থ্যকে ভালো রাখে এবং কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

লবণ গ্রহণের দিকে খেয়াল রাখা:
লবণ বেশি খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমানোর চেষ্টা করুন। কম লবণ খাওয়ার অভ্যাস কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে। লবণাক্ত খাবার কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতির দিকে অগ্রসর করে।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন:
চায়ে যদিও অক্সালেট থাকে, যা কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। তবে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে এর ঝুঁকি কম। পরিমিত পরিমাণ চা পান করলে এবং হাইড্রেটেড থাকা হলে সাধারণত চা পান নিরাপদ। কিন্তু কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রবণতা থাকলে, এসব এড়ানোর অভ্যাস করতে হবে এবং একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ক্যাটাগরি