পার্বত্য চট্টগ্রামের এডিপিতে ৯৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দ, পর্যটন-কৃষিতে জোর

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) জিওবি ও প্রকল্প সাহায্যসহ মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি পাহাড়ের পর্যটন, কৃষি, শিক্ষা, সুপেয় পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বেইলি রোডে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আগস্ট ২০২৬ মাসের এডিপি পর্যালোচনা সভায় এসব বিষয় উঠে আসে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি।
সভায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাস্তবায়নাধীন এডিপিভুক্ত প্রকল্পগুলোর আর্থিক ও বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় চলতি অর্থবছরের এডিপিতে জিওবি ও প্রকল্প সাহায্য মিলিয়ে মোট ৯৬৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দের তথ্য জানানো হয়।
সভায় মন্ত্রী সাচিং প্রু পাহাড়ের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন ও কৃষির আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সাজেক ভ্যালিতে হাজার হাজার গাড়ির আগমন পাহাড়ের পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে সেখানে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা, ওয়াশরুম সুবিধা বৃদ্ধি এবং ট্রানজিট পয়েন্টগুলো আরও সুসংগঠিত করা প্রয়োজন।
পার্বত্য অঞ্চলের কৃষিকে আরও সমৃদ্ধ করতে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, একরপ্রতি কফি ও কাজুবাদামের চাষ দীর্ঘমেয়াদে, এমনকি ৮০ থেকে ৯০ বছর পর্যন্ত, অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে পারে। পাশাপাশি লাল মাশরুম চাষ এবং নেপালের ইসিমোড (ICIMOD)-ভিত্তিক ওয়াটার সোর্স তৈরির মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় পানি সংরক্ষণ ও পানির প্রবাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন পাহাড়ের শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তিনি বলেন, ই-লার্নিং ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাহাড়ের শিক্ষার্থীদের সমতলের শিক্ষার্থীদের সমকক্ষ করে তুলতে হবে।
পাহাড়ি নারীদের দীর্ঘদিনের পানি সংগ্রহের কষ্ট লাঘবে প্রতিটি উপজেলায় সুপেয় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে প্রত্যন্ত অঞ্চলে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমিধস মোকাবিলায় পরিবেশ রক্ষা করে পরিকল্পিত পর্যটন এবং কর্মসংস্থানমূলক প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন প্রতিমন্ত্রী। পাহাড়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে ডাক্তার, প্রকৌশলী ও গবেষক হয়ে দেশের অর্থনীতিতে সমানভাবে অবদান রাখতে পারে, সে সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
সভায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ কুমার চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কংকন চাকমা, যুগ্মসচিব অতুল সরকার, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান (যুগ্মসচিব) শেখ ছালেহ আহাম্মদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাম্যা চিং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার এবং খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রা সা হোয়াই মারমা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে. এস. মং, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী ইলিয়াস মেহেদীসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
ফিনান্সিয়াল বার্তা/ এইচ



