ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের জন্য নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ার কেনা ও পরিচালক মনোনয়নের ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তার নিজস্ব সম্পদের পরিমাণের বেশি অর্থ ব্যবহার করে কোনো ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারবে না। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে শেয়ারধারী কোম্পানির পক্ষ থেকে শুধু ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) মনোনয়ন দেওয়া যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের সক্ষমতা ও পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমা কার্যকর হলো। এর উদ্দেশ্য ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা কাঠামোতে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
নতুন নিয়মে কোনো কোম্পানি তার নিজস্ব সম্পদের তুলনায় বেশি পরিমাণ অর্থ দিয়ে ব্যাংকের শেয়ার কিনতে পারবে না। অর্থাৎ, প্রতিষ্ঠানের সম্পদের ভিত্তি বিবেচনায় নিয়েই ব্যাংকের শেয়ারে বিনিয়োগ করতে হবে।
একই সঙ্গে কোনো শেয়ারধারী কোম্পানি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে চাইলে ওই কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককেই মনোনীত করতে হবে। এর ফলে শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যাংক পরিচালনায় প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিও নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আসবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোতে স্বচ্ছতা বাড়ানো, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং নামসর্বস্ব বা বেনামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যাংকের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের পরিচালনা ও সুশাসন জোরদারে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছে। এর আগে ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নে অভিন্ন কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর (KPI) কাঠামোও জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার মালিকানা ও পরিচালনা পর্ষদে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডারদের ভূমিকা আরও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আসবে।



