রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের ঋণে কঠোর শর্ত, নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের

রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করতে ব্যর্থ রপ্তানিকারক এবং যাদের ইডিএফের বকেয়া দায় বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাধারণ ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করা হয়েছে, তারা আর ইডিএফ সুবিধা পাবেন না।
এ সংক্রান্ত সব বিচ্ছিন্ন নির্দেশনা একত্র করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নতুন ‘মাস্টার সার্কুলার’ জারি করেছে। এতে সুদহার, ঋণের মেয়াদ, পুনঃঅর্থায়ন ব্যবস্থা, অর্থায়নের সীমা এবং পরিচালনাগত নিয়মাবলি হালনাগাদ করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ইডিএফ ঋণের সুদের হার নির্ধারিত হবে ৬ মাসের বেঞ্চমার্ক হারের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেঞ্চমার্ক হারের চেয়ে ০.৫০ শতাংশ বেশি সুদে অর্থ দেবে এবং ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১.৫০ শতাংশ বেশি সুদ নিতে পারবে।
ইডিএফ ঋণের সাধারণ পরিশোধের মেয়াদ ১৮০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে এ মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, আটকে থাকা রপ্তানি আয় দেশে ফেরত এলে বা ডিসকাউন্ট কমিটির মাধ্যমে অব্যাহতি পেলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক পুনরায় ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
এছাড়া ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে আগের অর্থায়ন সীমা বহাল রাখা হলেও নতুন করে খাত নির্বিশেষে যোগ্য বাল্ক আমদানির জন্য সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইডিএফ পুনঃঅর্থায়নের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, একীভূত মাস্টার সার্কুলারের ফলে ইডিএফ-সংক্রান্ত আবেদন, মেয়াদ বৃদ্ধি এবং পরিচালনাগত জটিলতা কমবে, পাশাপাশি নীতিমালা অনুসরণও সহজ হবে।




