‘এনবিবি’ নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদের প্রেক্ষিতে জনতা ব্যাংকের প্রতিবাদ

গত ২০/০৫/২০২৬ তারিখ ‘এনবিবি’ নিউজ পোর্টালে ‘‘জনতা ব্যাংকের কয়েকশ কোটি টাকার লোকসান, বদলি বাণিজ্য ও কমিশন কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে এমডি মজিবর রহমান’’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন জনতা ব্যাংক পিএলসি. কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ব্যাংকের এমডি মহোদয়কে জড়িয়ে প্রতিবেদনে উপস্থাপিত বাস্তবতা বিবর্জিত অসত্য ও অসৎ উদ্দেশ্যে প্রণীত তথ্যাবলী জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। এ বিষয়ে জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ।
প্রতিবেদনে ব্যাংকের ২০২৪ সালের লোকসানের পরিমান ৩০৬৬ কোটি টাকা উল্লেখ করে এর দায় ব্যাংকের এমডি মোঃ মজিবর রহমানের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়। এ বিষয়ে আমাদের বক্তব্য হলো, গত ০৭.১১.২০২৪ তারিখে জনতা ব্যাংকে এমডি হিসেবে জনাব মো: মজিবর রহমান যোগদান করেন। ২০২৪ সালে ০২ মাসেরও কম সময় তিনি জনতা ব্যাংকের এমডি’র দায়িত্ব পালন করেন। কোন ব্যাংক হঠাৎ করে লোকসানে পড়ে যায়না। ৫ই আগস্ট/২৪ পূর্ববর্তী দীর্ঘ ১৭ বছরে রাজনৈতিক বিবেচনায় যাছাই-বাচাইহীনভাবে তৎকালীন প্রভাবশালী গ্রুপসমূহের অনুকুলে ঋণ বিতরণের বিষয়টি সুবিদিত। উক্ত ঋণের সিংহভাগ ইতোমধ্যেই মন্দ বা খেলাপীতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহনের পুর্বেই অত্র ব্যাংকের খেলাপী ঋণের হার ছিল ৬৮%। গৃহীত আমানতের বিপরীতে কমিটমেন্ট অনুযায়ী সুদ প্রদান করা হলেও বিনিয়োগকৃত/ বিতরণকৃত ঋণ হতে আসল অংশ ফেরত না আসা বা কোন আয় না আসায় নেগেটিভ স্প্রেডের কারণে ২০২৪ সনে তীব্র তহবিল সংকটে পতিত হওয়া সহ উল্লিখিত ৩০৬৬ কোটি টাকা লোকসান করে। সার্বিক বিষয়টি দীর্ঘ পুঞ্জিভুত অব্যবস্থাপনারই ফসল ছিল।
বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহন করেই ব্যাংকের সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিতের পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে তহবিল সংকট নিরসনে গ্রাহকের চাহিদা ও বাজারের অন্যান্য ব্যাংকের সহিত সামঞ্জস্য রেখে গড় সুদ খরচ ৮-৯% এর মধ্যে রেখে একাধিক আমানত প্রোডাক্ট চালু করেন। ফলশ্রুতিতে ২০২৫ সালের শেষে এসে ব্যাংকের দৈনন্দিন ধারের (বোরোয়িং) পরিমান এক সময়ের ২২০০০ কোটি টাকা থেকে কমে ৯৫০০ কোটি টাকায় নেমে আসে। উল্লেখ্য ঘাটতি পুরণে কলমানি মার্কেট বা রিপোর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক হতে ধারের গড় খরচ হলো ১০%-১১%। বিভিন্ন প্রোডাক্টের মাধ্যমে সংগৃহীত বর্ধিত আমানত কৃষি/সিএমএসএমই খাত সহ অন্যান্য নিরাপদ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংক ২০২৫ সনে প্রায় ২৮০০ কোটি টাকা মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছে।
ব্যাংকের লোকসান কমানোর লক্ষ্যে ছোট পরিসরে ঋণ বিতরণের পাশাপাশি খেলাপী ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন সহ নিয়মের ভিতর থেকে সকল ধরনের ছাড় দিয়ে খেলাপী ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ২০২৫ সালে খেলাপীর বিপরীতে প্রায় ১০০০ কোটি আদায় করা হয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকে এমডি জনাব মজিবর রহমান এর কার্যকাল ছিল ০৬.০৯.২০২২ থেকে ০৬.১১.২০২৪। তাই উক্ত ব্যাংকে ২০১৭-১৮ সালের নীরিক্ষা আপত্তি নিষ্পত্তি না করেই বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিভ্রান্তিকর।
জনতা ব্যাংকে প্রশাসন বিভাগের লাইন ম্যানেজমেন্ট এ কর্মরত ডিজিএম/জিএম/ডিএমডি/এমডি গণ অনুমোদিত ক্ষমতায় কর্মীদেরকে বদলী করতে পারেন। সকল বদলীই যে এমডির ক্ষমতায় হয় বিষয়টি তা নয়। বর্তমান এমডি দায়িত্ব গ্রহন করার পর শৃংখলা আনয়নে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, জেলা/বিভাগীয় পর্যায়ের নিয়ন্ত্রিত কার্যালয় ও বিভিন্ন শাখাসমূহে গড়ে ৫-৮ বছর যাবৎ কর্মরত, প্রতি ০৩ বছর পর কর্মস্থল পরিবর্তনের নির্দেশনা থাকলেও, কর্মীদেরকে বদলী করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এত কেউ কেউ সক্ষুব্ধ হতে পারেন এবং এই ধরনের কুৎসা রটনায় লিপ্ত হতে পারেন।
ব্যাংক থেকে মঞ্জুরীকৃত নতুন ঋণের বিপরীতে বা ইতোমধ্যে মঞ্জুরীকৃত ঋণ নবায়নকালে ঋণের অর্থ ফেরত প্রাপ্তির বিষয়টি নিরাপদ রাখার জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিসম্পদ বিবিধ ঝুঁকির বিপরীতে সুরক্ষিতকরণে ইন্সুরেন্স গ্রহনের শর্তারোপ করা হয়। এটি একটি আবশ্যকীয় শর্ত। গ্রাহক নিজ উদ্যোগে অনুমোদিত ইন্সুরেন্স কোম্পানী হতে ঋণ শর্ত মোতাবেক বীমা করে কাভার নোট শাখায় দাখিল করতে পারে অথবা লিখিতভাবে প্রিমিয়ামের অর্থ তাহাদের হিসাব হতে কর্তনের মাধ্যমে বীমা কভার নোট সংগ্রহকরণে শাখাকে ক্ষমতায়িত করতে পারে। অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়টির খোঁজ নিয়ে জানা যায় গ্রাহক ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেড কর্তৃক নিজ উদ্যোগে ইউনিয়ন ইন্সুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড এর সহিত যোগাযোগ করত: সুনির্দিষ্ট পরিমান প্রিমিয়ামের উল্লেখ করে লিখিতভাবে পে-অর্ডার ইস্যুর জন্য শাখাকে অনুরোধ করেন। ১১.১১.২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত পে-অর্ডারের সম্পূর্ন অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকাশ সিষ্টেমের মাধ্যমে ১২.১১.২০২৫ তারিখে ইন্সুরেন্স কোম্পানীর হিসাবে জমা হয়। একই প্রক্রিয়ায় বিগত ২০২৩ ও ২০২৪ সনেও বীমা সংশ্লিষ্ট আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রাহকের অনুকুলে বিতরনকৃত ঋণ ঝুঁকিমুক্ত রাখার নিমিত্তে বীমাকরণের সম্পুর্ণ প্রক্রিয়াটি গ্রাহক ও শাখা কর্তৃক পরিপালিত হয়। এ ক্ষেত্রে সকল কার্যক্রম শাখা বাস্তবায়ন করে এমডি’র কোন ভূমিকা বা সংশ্লিষ্টতা থাকেনা।
১৬.০৯.২০২৫ এ জারীকৃত বিআরপিডি সার্কুলার নং ০৭ এর আওতায় শর্তপুরনকারী বহু গ্রাহকের অনুকুলে ইতোমধ্যে পুন:তফসীল ও এক্সিট সুবিধা প্রদান করা হয়েছে এবং গত এপ্রিল/২০২৫ হতে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ নীতি সহায়তা কমিটি গঠন করার পর অত্র ব্যাংকের মোট ২১ জন গ্রাহকের অনুকুলে বিবিধ শর্তাদিতে নীতিসহায়তা প্রদানের অনুমোদন প্রেরন করা হয়। মোট ২১ জন গ্রাহকের মধ্যে মোট ১০ জন গ্রাহকের অনুকুলে বিজড়িত মোট ৭১৬.০১ কোটি টাকার নীতি-সহায়তা অনুমোদন ইতিমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ২৮৬.৯২ কোটি টাকা শ্রেণীকৃত ঋণ হ্রাস করা হয়েছে। বাকী (২১-১০) ১১ জন গ্রাহকের মধ্যে ০৯ জন গ্রাহক বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদিত শর্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ডাউন পেমেন্ট অদ্যাবধি জমা না দেওয়ায় নীতি সহায়তা প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা যায় নি, অবশিষ্ট ০২ জন গ্রাহকের প্রস্তাব মঞ্জুরীর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নীতি সহায়তা প্রাপ্ত গ্রাহকদের পুন:তফশিল সুবিধার বিষয়টি জনতা ব্যাংক কর্তৃক শতভাগ এড্রেস করা হয়েছে।
ফলে জনতা ব্যাংকের এমডি হিসেবে নীতি সহায়তা প্রাপ্ত গ্রাহকদের পুন:তফসীল দিতে গড়িমসি নেহায়েতই একটি মনগড়া অভিযোগ যা বাস্তবতা বিবর্জিত।




