অর্থনীতি

কর ছাড়ের প্রভাবে ৩ মাসে আয়কর রিটার্ন জমা বেড়েছে ৭৭ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে ৫ শতাংশ কর ছাড়ের সুবিধা নিতে করদাতাদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ করবর্ষের প্রথম তিন মাসে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা ১২ লাখ ৫৩ হাজার রিটার্ন জমা দিয়েছেন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭৭ শতাংশ বেশি। এ সময়ে প্রায় ৩ লাখ করদাতা কর ছাড়ের সুবিধা নিয়েছেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কর ছাড়ের সুযোগ করদাতাদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করেছে।

রিটার্ন জমায় বড় প্রবৃদ্ধি

চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে ১২ লাখ ৫৩ হাজার ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে রিটার্ন জমার সংখ্যা ছিল ৭ লাখ ৯ হাজার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রিটার্ন জমা বেড়েছে ৫ লাখ ৪৪ হাজার, যা প্রায় ৭৭ শতাংশ।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিয়ে প্রায় ৩ লাখ করদাতা কর ছাড় পেয়েছেন। এতে করদাতাদের মধ্যে সময়মতো রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

কীভাবে পাওয়া গেছে ৫ শতাংশ কর ছাড়

গত ২ আগস্ট এনবিআর ঘোষিত প্রণোদনাভিত্তিক ব্যবস্থায় ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে এ ছাড় পাওয়া যাবে না।

এ ব্যবস্থায় প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ ছাড় পাওয়া যায়, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ ২৫ হাজার টাকা। কর পরিশোধের সময় ছাড়ের অর্থ মোট করের দায় থেকে সমন্বয় করা হয়।

উদাহরণ হিসেবে, কোনো করদাতার প্রদেয় আয়কর ২০ হাজার টাকা হলে ৫ শতাংশ ছাড়ের পরিমাণ হবে ১ হাজার টাকা। সে ক্ষেত্রে অন্যান্য সমন্বয় বা প্রযোজ্য বিধান না থাকলে তাঁকে ১৯ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

সময় পেরিয়ে রিটার্ন জমা দিলে কী হবে

নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ২ শতাংশ অথবা ৩ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ জরিমানা দিতে হবে। আর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে প্রদেয় করের ৫ শতাংশ অথবা ৫ হাজার টাকা—যেটি বেশি, সেই পরিমাণ জরিমানা প্রযোজ্য হবে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে জরিমানার পরিমাণ ও প্রযোজ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আয়কর আইন, বিধান এবং এনবিআরের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি। করদাতার ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো বিধান প্রযোজ্য কি না, সেটিও বিবেচনায় নিতে হবে।

ছোট করদাতারাও পেয়েছেন সুবিধা

কর ছাড়ের সুবিধা ক্ষুদ্র করদাতাদেরও সময়মতো রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করেছে। মোহাম্মদ ইসমাইল নামের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ৩০ সেপ্টেম্বর রিটার্ন জমা দিয়ে ২০ হাজার টাকা করের বিপরীতে প্রায় ১ হাজার টাকা ছাড় পেয়েছেন।

তিনি জানান, সরকারের কর ছাড়ের ঘোষণা তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত করেছে। ছাড়ের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এ সুবিধা পেয়ে তিনি আনন্দিত।

করদাতাদের জন্য কী বার্তা

প্রথম তিন মাসে রিটার্ন জমার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রায় ৩ লাখ করদাতার কর ছাড় পাওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায়, আর্থিক প্রণোদনা সময়মতো কর পরিপালনে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের পরে রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আর্থিক দায়ের বিষয়টিও করদাতাদের বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

যাঁরা এখনো রিটার্ন জমা দেননি, তাঁদের উচিত সংশ্লিষ্ট করবর্ষের সময়সীমা, জরিমানা এবং প্রযোজ্য নিয়ম সম্পর্কে এনবিআরের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত জরিমানা এড়ানোর পাশাপাশি করসংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব হবে।

ক্যাটাগরি