অর্থনীতি

গ্যাস সংকটে পোশাক কারখানাকে সিএনজি সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহের দাবি বিজিএমইএ-বিকেএমইএর

মহেশখালীর একটি ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে সৃষ্ট তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্যে রফতানিমুখী পোশাক কারখানাগুলোকে সাময়িকভাবে সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারের মাধ্যমে সংকুচিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) সংগ্রহের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশের দুই শীর্ষ পোশাকশিল্প সংগঠন— বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিকেএমইএ)

বুধবার (২৯ জুলাই) পৃথক চিঠিতে সংগঠন দুটি সরকারকে জানায়, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যবস্থা চালু করা হলে উৎপাদন ও রফতানি কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হবে।

এর আগে ২৭ জুলাই তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনকে অনুমোদিত যানবাহনের বাইরে খোলা সিলিন্ডার বা গ্যাস ক্যাসকেডে প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রি বন্ধের নির্দেশ দেয়। সংস্থাটির দাবি, এ ধরনের গ্যাস সরবরাহ নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং গ্যাস আইন-২০১০ ও গ্যাস বিতরণ বিধিমালা-২০২৬-এর পরিপন্থি।

বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটির কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিল্পাঞ্চলে ভয়াবহ গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানায় গ্যাসের চাপ শূন্য পিএসআইয়ে নেমে এসেছে, ফলে উৎপাদন বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সময়মতো পণ্য সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে বিকেএমইএ জানিয়েছে, বিষয়টি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিবকে অবহিত করার পর তিনি তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে রফতানিমুখী কারখানাগুলো আগের মতো সিএনজি ফিলিং স্টেশন থেকে গ্যাস সংগ্রহ করতে পারে। সংগঠনটি সদস্য কারখানাগুলোকে নিরাপত্তা বিধি মেনে গ্যাস ব্যবহার এবং বিকল্প এলএমজি (মোবাইল গ্যাস) ব্যবস্থা থাকলে তা সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

বিকেএমইএর মতে, বর্তমান গ্যাস সংকট আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, Excelerate Energy পরিচালিত মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জাতীয় গ্যাস গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে শিল্প, আবাসিক, সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে তীব্র গ্যাস সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সরকার দ্রুত টার্মিনালটি সচল করতে বিকল্প যন্ত্রাংশ আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।

ক্যাটাগরি