লাইফস্টাইল

ঘুমহীন রাত: কারণ ও সমাধান

নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দেহে ও মনে নানান সমস্যা দেখা দেয়। ঘুম মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। প্রতিদিন ছয় থেকে সাত ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন হলেও অনেকে এর চেয়ে কম বা বেশি ঘুমান।

তবে কিছু মানুষ আছেন, যারা ইচ্ছা থাকলেও ঘুমাতে পারেন না। কখনও ঘুম আসে না, কখনও ঘুমের মাঝে বারবার ভেঙে যায় ঘুম; আবার কখনও অকারণে রাত জেগে কাটে।

এই নিদ্রাহীনতা শুধু অস্বস্তিই নয়, দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর।

কী কারণে ঘুম আসে না এবং কীভাবে এর সমাধান করা যায়, তা জানিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউট’য়ের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনা।

ডা. ফারজানা রহমান দিনা বলেন, “নিদ্রাহীনতা যে কোনো কারণে বা কারণ ছাড়াই হতে পারে।”

সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা: পারিবারিক ঝামেলা, সামাজিক চাপ বা দুঃসংবাদ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। প্রিয়জনের অসুস্থতা বা অতিরিক্ত দুশ্চিন্তাও ঘুম কেড়ে নিতে পারে।

শারীরিক অসুস্থতা: পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, জ্বর বা অতিরিক্ত ক্লান্তি ঘুমের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শিশুদের ক্ষেত্রে অসুস্থতা বা রাতে বিরক্ত করা ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করে।

মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা: ‘সিজোফ্রেনিয়া’, ‘মুড ডিজঅর্ডার’ বা ‘ডিপ্রেশন’য়ের মতো রোগে ঘুম না আসার সমস্যা দেখা দেয়।

বয়সজনিত কারণ: বয়স্কদের ক্ষেত্রে বার্ধক্যজনিত সমস্যা বা দিনের বেলা অতিরিক্ত ঘুম- ঘুমের সমস্যা তৈরি করে।

জীবনযাত্রার অভ্যাস: অ্যালকোহলের অতিরিক্ত ব্যবহার বা হঠাৎ তা বন্ধ করা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়। শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়, পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত না হওয়া বা অতিরিক্ত চঞ্চলতা ঘুমের বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

নিয়মিত ঘুমের জন্য করণীয়:

নিদ্রাহীনতা কাটিয়ে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়তে কিছু সহজ কৌশল কার্যকর হতে পারে।

ডা. ফারজানা রহমান দিনার পরামর্শগুলো হল:

নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান। এতে জৈবিক ঘড়ি নিয়মিত হয়।

ঘুমের পরিবেশ তৈরি: ঘুমের আগে হালকা গান শুনুন, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন এবং মনকে প্রফুল্ল রাখুন। চা, কফি বা উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলুন।

হালকা ব্যায়াম: ঘুমের আগে হাত-পা বা শরীর শক্ত করে ধীরে ধীরে ছেড়ে দেওয়ার ব্যায়াম করুন। এটি শরীরকে শিথিল করে।

মানসিক প্রশান্তি: বিছানায় শুয়ে বই পড়ুন বা পুরানো সুখের স্মৃতি মনে করুন। হতাশার চিন্তা এড়িয়ে নিজেকে বিজয়ী ভাবুন। উল্টা গণনা (যেমন- ১০০০ থেকে ৯৯৯, ৯৯৮) মনে মনে করতে পারেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ: দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ বা চিকিৎসা গ্রহণ করুন।

ঘুমের গুরুত্ব:

নিয়মিত ঘুম শরীরের ক্লান্তি দূর করে, মানসিক চাপ কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

ঘুমের অভাবে মনোযোগ কমে, কাজের দক্ষতা হ্রাস পায় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস বা মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।

তাই নিদ্রাহীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে সময়মতো সমাধান করা জরুরি।

ঘুমহীন রাতগুলো যেন জীবনের আনন্দ কেড়ে না নেয়, সেজন্য সঠিক রুটিন ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করা উচিত।

 

ক্যাটাগরি