চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত ১৬

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া নগকু শহরের জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোর বরাত দিয়ে হতাহত হওয়ার এ তথ্য জানিয়েছে।
সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ১১ জনের অবস্থা গুরুতর ছিল। বাকি ২১ জন সামান্য আহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পের উপকেন্দ্রের কাছের একটি গ্রাম থেকে অন্তত দুজন আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।
ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল উত্তর তিব্বতের নগকু অঞ্চলের স্বল্প জনবসতিপূর্ণ একটি উচ্চভূমি এলাকায়। ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। চায়না আর্থকোয়েক নেটওয়ার্কস সেন্টারের (সিইএনসি) তথ্য অনুযায়ী, উপকেন্দ্রের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে ভূমির গড় উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে কয়েকজনকে রাস্তায় পার্ক করা গাড়িতে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।
এক বাসিন্দা জানান, শক্তিশালী কম্পনে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় বাড়ি কেঁপে ওঠার পাশাপাশি তিনি কড়কড় শব্দ শুনতে পান।
তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। সিইএনসির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় এলাকায় কম্পনটি বেশ জোরে অনুভূত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে দমকল ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় ৩ ও ৪ মাত্রার কয়েকটি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর চীনে এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।
এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ ছিলেন।



