জাতীয়

ছাদে সোলার বসিয়ে গ্রিডে বিদ্যুৎ দিলে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা

ছবি: সংগৃহীত

ছাদে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি স্থাপন করে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করলে প্রতি ইউনিটে ১০ টাকা ৫০ পয়সা পাওয়ার সুযোগ দিয়েছে সরকার। এ সুবিধা পেতে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর মধ্যে সোলার সিস্টেম স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের আওতায় উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ শুরু করতে হবে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক প্রচারণামূলক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী গ্রাহকরা ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০৩০ পর্যন্ত এ সুবিধা পাবেন। এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজের প্রজ্ঞাপন জারি করে বিদ্যুৎ বিভাগ। প্রজ্ঞাপনটি একই দিন থেকে কার্যকর হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যয় প্রতি ইউনিট ৮ টাকা ধরা হয়েছে। এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা এবং ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে গ্রিডে সরবরাহ করা উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো গ্রাহক নির্ধারিত ব্যয়ের চেয়ে কম খরচে সিস্টেম স্থাপন করতে পারলে সাশ্রয় হওয়া অর্থ তার লভ্যাংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।

এ সুবিধা পেতে প্রথমে ছাদের কতটুকু জায়গা সোলার প্যানেল স্থাপনের উপযোগী, তা নির্ধারণ করতে হবে। এরপর নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুযায়ী সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার ও মিটার স্থাপন করে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করতে হবে।

উৎপাদিত বিদ্যুৎ প্রথমে গ্রাহকের নিজস্ব চাহিদা পূরণে ব্যবহার করা যাবে। এরপর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে। গ্রিডে সরবরাহ করা বিদ্যুতের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা নির্ধারণ ও সংরক্ষণ করবে।

গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের মূল্য ও প্রণোদনার অর্থ গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব অথবা মোবাইল আর্থিক সেবা হিসাবে সরাসরি পাঠানো হবে। প্রতি তিন মাস পরপর এ অর্থ পরিশোধ করা হবে। কোনো অবস্থাতেই নগদে অর্থ দেওয়া হবে না।

তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এর পর স্থাপিত সোলার সিস্টেম এ বিশেষ প্রণোদনার আওতায় আসবে না। পাশাপাশি সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, ইনভার্টার, মিটারসহ ব্যবহৃত সব যন্ত্রপাতিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড মেনে চলতে হবে।

বিদ্যুৎ বিভাগের মতে, অব্যবহৃত ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কাজে লাগানো এবং জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই এ বিশেষ প্রণোদনার মূল লক্ষ্য।

ক্যাটাগরি