বিদেশি ঋণ পরিশোধে নতুন রেকর্ড, এক বছরে ৪৪৯ কোটি ডলার শোধ করেছে বাংলাদেশ

বিদায়ী ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে ৪৪৯ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সময়ে বিদেশি ঋণের ছাড় ও নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি কমে যাওয়ায় সামনের বছরগুলোতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২ আগস্ট) প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ তথ্যে দেখা যায়, গত অর্থবছরে ঋণের আসল বাবদ ২৯৫ কোটি ডলার এবং সুদ বাবদ ১৫৪ কোটি ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি মাসে গড়ে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ শোধ করতে হয়েছে।
এর আগের ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিদেশি ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধের অঙ্ক আরও বেড়েছে, কারণ বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋণ পরিশোধ বাড়লেও কমেছে বিদেশি ঋণের প্রবাহ। বিদায়ী অর্থবছরে বিদেশি ঋণের ছাড় হয়েছে ৮০৭ কোটি ডলার এবং নতুন ঋণের প্রতিশ্রুতি এসেছে ৮৩২ কোটি ডলার। ঋণ ছাড়ের ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বব্যাংক (২০৭ কোটি ডলার), দ্বিতীয় অবস্থানে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ১৯১ কোটি ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে রাশিয়া ১০৫ কোটি ডলার ছাড় করেছে। তবে ভারত ও চীন বিদায়ী অর্থবছরে নতুন কোনো ঋণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি।
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ পরিশোধ প্রায় চার গুণ বেড়েছে। ২০১২–১৩ অর্থবছরে যেখানে ঋণ পরিশোধ ছিল ১১০ কোটি ডলার, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বিদেশি ঋণ পরিশোধের এই বাড়তি চাপ সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল ও মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর গ্রেস পিরিয়ড শেষ হওয়ায় আগামী কয়েক বছর ঋণের কিস্তি পরিশোধ আরও বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারলে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপ মোকাবিলা তুলনামূলক সহজ হবে। তবে নতুন ঋণ সংগ্রহ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক নীতি অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।




