মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম ১১৭ ডলার ছাড়াল

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৭ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছায়। পরে অবশ্য দাম কিছুটা কমে ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে নেমে আসে। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ছিল ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ দাম।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশগুলোতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে চলতি মাসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৭৯ দশমিক ০২ শতাংশ। অন্যদিকে, গত এক মাসে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ এবং এক বছরে বেড়েছে ৬৭ দশমিক ৯২ শতাংশ।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে জ্বালানি তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। গত শুক্রবারের ফিউচারস চুক্তির দরও সেই আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এসব চুক্তি অনুযায়ী, আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। পাশাপাশি তিনি ‘খুব শিগগিরই’ কিছু একটা ঘটতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।
ট্রাম্পের এ মন্তব্যের পর ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানে আবারও হামলা জোরদার করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
অন্যদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন, তাঁদের সামরিক বাহিনী যেকোনো অসম যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২০ ডলারে পৌঁছানোর আশঙ্কা করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীদের হামলা বৃদ্ধির আশঙ্কাও তেলের বাজারে চাপ তৈরি করছে। হুতিদের ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো কর্মীদের প্রধান কার্যালয় ছেড়ে বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, লিবিয়ায় তেল উৎপাদন ও সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। দেশটির ন্যাশনাল অয়েল করপোরেশনের (এনওসি) তথ্য অনুযায়ী, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্রে সরবরাহকারী একটি পাইপলাইনের ভাল্ভ বন্ধ করে দিয়েছেন।
এর ফলে হামাদা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেল এবং তাহারা তেলক্ষেত্রে দৈনিক ৪০ হাজার ব্যারেল উৎপাদন কমেছে।
বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে এসব উদ্বেগের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হলে দাম বৃদ্ধির চাপ বাড়তে পারে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর আমদানি ব্যয় ও অর্থনীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: অয়েল প্রাইস ডটকম।



