ম্যাকাই টেস্টে স্টার্কের তাণ্ডব, ৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৯ উইকেটের জয়ের পর ম্যাকাই টেস্টে এসে ব্যাটিংয়ে চরম ব্যর্থ হলো বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন ৬৪ রানে অলআউট হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। মাত্র ৩৪ ওভারেই বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস গুটিয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়া।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কের তোপে পড়ে বাংলাদেশ। প্রথম ২২ বলেই ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি। ৬.৪ ওভারে মাত্র ১২ রানেই বাংলাদেশের ৫ ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার।
শুরুতেই সাদমান ইসলামকে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান স্টার্ক। এরপর টানা দুই বলে তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তকে আউট করেন তিনি। প্রথম তিন ব্যাটারই রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। পরে মুমিনুল হককে ৯ রানে এবং লিটন দাসকে শূন্য রানে ফেরান স্টার্ক।
একপর্যায়ে ২১ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বনিম্ন ২৬ রানে অলআউট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদের ব্যাটে সেই বিপদ কিছুটা কাটে। লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২৩ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৫ রান।
দ্বিতীয় সেশনে প্যাট কামিন্স মিরাজকে ১১ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন। পরের ওভারে জশ হ্যাজেলউডের শিকার হন হাসান মাহমুদ। এরপর কামিন্স তাসকিন আহমেদকে ফেরালে ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
তবে তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম শেষ দিকে লড়াই করেন। শরিফুল ১৪ রান করে ইনিংসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। তাইজুলের সঙ্গে তার ২৫ রানের জুটি বাংলাদেশকে ৪৩ রানের আগেই অলআউট হওয়ার লজ্জা থেকে বাঁচায়। শেষ পর্যন্ত স্টার্ক তাইজুলকে ১১ রানে অপরাজিত রেখে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ১০ ওভারে ১২ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন মিচেল স্টার্ক। কামিন্স নিয়েছেন ৩ উইকেট এবং হ্যাজেলউড ১টি।
ডারউইনে ঐতিহাসিক জয়ের পর ম্যাকাইয়ে বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং বিপর্যয় তাই সিরিজে নতুন করে বড় চাপ তৈরি করেছে।



