হরমুজ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার মেয়াদ শেষ

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে করা ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ওই সমঝোতার মেয়াদ বাড়াতে ওয়াশিংটন আগ্রহী নয়। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বৃহত্তর একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে ৬০ দিনের একটি কাঠামোগত সমঝোতা হয়েছিল। সোমবার সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে এখনো দুই দেশ কোনো পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গুরুতর লঙ্ঘনের কারণে নির্ধারিত আলোচনার সময়সীমার আর কার্যকারিতা নেই। একই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা হলে জবাব দিতে দেশটির বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, ইরান আলোচনা করতে চাইলেও যুক্তরাষ্ট্র যে ধরনের চুক্তি চায়, তাতে তেহরান এখনো রাজি নয়। তাঁর ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকা যাবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রাখা।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, নৌ অবরোধের মাধ্যমে প্রণালিটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড ঘোষণার ধারণাকেও তিনি ‘দারুণ’ বলে মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি বর্তমানে খোলা রয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে তেলের দাম কমছে এবং ভবিষ্যতে আরও কমতে পারে।
তবে ইরান প্রণালিতে কিছুটা সমস্যা তৈরি করতে পারে বলেও স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরান বর্তমানে ‘বড় সমস্যার মধ্যে’ রয়েছে।
ফলে ৬০ দিনের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পথ কতটা খোলা থাকবে এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা, আনাদোলু এজেন্সি
এফ বার্তা /এইচ



