আন্তর্জাতিক

হরমুজ খুলতে ৭ দিনের সময়সীমা, যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব শর্ত দিল ইরান

হরমুজ প্রণালি।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ওয়াশিংটনকে সাত দিনের একটি রোডম্যাপ দিয়েছে ইরান। শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরুর প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের এ পরিকল্পনার কথা জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এরই মধ্যে প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়াশিংটন নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ করলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা পুনরায় শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

ইরানের ৭ দিনের প্রস্তাবে যেসব শর্ত

ইরানের দেওয়া রোডম্যাপে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—

  • গাজা ও লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে সাত দিনের মধ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করা;
  • ইরানের জব্দ থাকা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা;
  • ইরানি তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার;
  • ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া;
  • সপ্তম দিনের শেষে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা;
  • এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা শুরু করা।

ইরানের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাত দিনের শর্ত পূরণ হলে সপ্তম দিনেই হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হবে। এরপর দুই দেশ পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনায় বসবে।

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ

হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। এ পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর আগে ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমিয়ে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ তুলে নিলে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রণালিটি পুনরায় খোলার বিষয়ে তারা প্রস্তুত।

জুনের সমঝোতার পর নতুন প্রস্তাব

এর আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতার কাঠামো তৈরি হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সংঘাত ও মতপার্থক্যের কারণে সেই উদ্যোগ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে।

নতুন সাত দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে ইরান ওই সমঝোতার কিছু শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের পথ দেখিয়েছে। আরাকচির বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পরিকল্পনাটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটন শর্তগুলো মেনে নিলে তেহরানও পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এখনো আসেনি

মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব ওয়াশিংটন গ্রহণ করেছে—এমন কোনো ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক আলোচনাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ইরানের প্রস্তাবের শর্তগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

ইরানের নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এসেছে। তবে যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোতে সমঝোতায় পৌঁছানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।

 

ক্যাটাগরি