শিল্প-সাহিত্য

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কবি হেফজুরের প্রথম বই, উঠে এসেছে নির্বাসনের যন্ত্রণা

ছবি: সংগৃহীত

‘স্টিল আই ব্রিদ: ভয়েসেস দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট হিয়ার’ বইয়ে উঠে এসেছে নির্বাসন, নিপীড়ন, ভালোবাসা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি রক্ষার আকুতি

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে বসবাসরত ২২ বছর বয়সী কবি রো হেফজুরের প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। ১৪৮ পৃষ্ঠার কাব্যগ্রন্থটির নাম ‘স্টিল আই ব্রিদ: ভয়েসেস দ্য ওয়ার্ল্ড মাস্ট হিয়ার’ (Still I Breathe: Voices the World Must Hear)।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বইটি প্রকাশিত হলেও সম্প্রতি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এক বিশেষ সাহিত্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়। আন্তর্জাতিক সাহিত্য সংগঠন পেন ইন্টারন্যাশনাল এবং তাদের ইয়াং রাইটার্স কমিটির সহায়তায় এ প্রকাশনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কবি রো হেফজুরের মূল বাড়ি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের বুথিডং শহরের কিয়াং তং গ্রামে। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষাদান এবং তরুণদের শিক্ষা কার্যক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত।

হেফজুরের কবিতায় রোহিঙ্গাদের গৃহহীন হওয়া ও নির্বাসনের যন্ত্রণা, নিপীড়নের ক্ষত এবং বাস্তুচ্যুত জীবনের নানা অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। পাশাপাশি বন্ধুত্ব, ভালোবাসা, শিক্ষা ও ধর্মীয় উৎসবের মতো বিষয়ও স্থান পেয়েছে তাঁর কবিতায়।

নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার আকুতিও তাঁর লেখায় বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জীবন, পরিচয় ও ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁর কবিতায় নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।

যেভাবে প্রকাশিত হলো বইটি

‘রোহিঙ্গা ফিউচার্স’ প্রকল্পের আওতায় গবেষক ড. রোনান লির সহায়তায় হেফজুরের বইটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা লেখকদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশে কাজ করছে।

এর আগে হেফজুর বিশ্বজুড়ে উদীয়মান তরুণ লেখকদের প্ল্যাটফর্ম পেন ইন্টারন্যাশনালের সহযোগী উদ্যোগ ‘টুমরো ক্লাব’-এর সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে তাঁর কবিতা ও একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছিল।

অনলাইনে বইটি প্রকাশের পর হেফজুর পেন ইন্টারন্যাশনালকে জানান, অর্থাভাবের কারণে ক্যাম্পে থাকা বন্ধু ও পরিজনদের হাতে বইটির মুদ্রিত কপি তুলে দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।

পেন ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রোহিঙ্গা লেখক মায়ু আলীর সহায়তায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবার হাতে বইটির কপি পৌঁছে দেওয়া হয়।

কবিতায় রোহিঙ্গা জীবনের গল্প

হেফজুরের প্রথম কাব্যগ্রন্থে রোহিঙ্গা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা ও আকাঙ্ক্ষার কথাও উঠে এসেছে। নির্বাসন ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও নিজস্ব ভাষা ধরে রাখার যে চেষ্টা, তাঁর কবিতায় তার প্রতিফলন রয়েছে।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে একজন তরুণ কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশকে সাহিত্যাঙ্গনে রোহিঙ্গা লেখকদের কণ্ঠ তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

ক্যাটাগরি