ধর্ম

ছোট ছোট অপ্রাপ্তিতে নয়, আল্লাহর নিয়ামতের শোকর করুন

জীবনে ছোট ছোট অভাব-অনটন, কারও কাছ থেকে পাওয়া কষ্ট, বৈষম্যমূলক আচরণ কিংবা ধোঁকার কারণে মন খারাপ হওয়া মানুষের স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। তবে এই মন খারাপের সুযোগ নিয়ে শয়তান মানুষের অন্তরে অকৃতজ্ঞতার বীজ বপন করে। অথচ মানুষ প্রতিটি মুহূর্তে মহান আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতে নিমজ্জিত থাকে।

পকেটে এক টাকা না থাকলেও একজন সুস্থ-সবল মানুষ প্রকৃত অর্থে অমূল্য সম্পদের অধিকারী। কিন্তু আমরা অনেক সময় এসব নিয়ামতের গুরুত্ব উপলব্ধি করি না। প্রত্যেক মুমিনের উচিত মহান আল্লাহর দেওয়া এসব অমূল্য নিয়ামতের জন্য তাঁর শোকর আদায় করা।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুটি নিয়ামত এমন আছে, যার ব্যাপারে বেশির ভাগ মানুষ উদাসীন থাকে, সুস্থতা এবং অবসর সময়।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৪১২)

শরীরের কোনো অঙ্গে সাময়িক সমস্যা দেখা না দেওয়া পর্যন্ত আমরা সুস্থতার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারি না। অথচ সামান্য অসুস্থতাও কখনো মানুষকে পরনির্ভরশীল করে দিতে পারে। তখন নিজের দৈনন্দিন কাজটুকু করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এ থেকেই বোঝা যায়, সুস্থতা কত বড় নিয়ামত।

মানবদেহের দিকে তাকালেও আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের বিশালতা উপলব্ধি করা যায়। আমাদের মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ডসহ প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অত্যন্ত জটিল ও মূল্যবান। এসব অমূল্য নিয়ামত আমরা কোনো মূল্য পরিশোধ ছাড়াই পেয়েছি। তাই মহান আল্লাহর নিয়ামতের হিসাব করা মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়।

গোটা জীবন ইবাদতে কাটিয়ে দিলেও আল্লাহর একটি নিয়ামতের পূর্ণ শোকর আদায় করা সম্ভব নয়। তবু একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। এতে আল্লাহর রহমত ও নিয়ামতে বরকত লাভের আশা করা যায়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সত্যিকারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে আমি তোমাদের আরো বেশি দেব, আর যদি অকৃতজ্ঞ হও, তবে জেনে রেখো আমার শাস্তি অতি কঠিন।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)

প্রকৃত মুমিনের জন্য জীবনের কোনো অবস্থাই পুরোপুরি অকল্যাণকর নয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শোকর আদায় করে আর অসচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, প্রতিটিই তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস: ৭৩৯০)

অর্থাৎ সুখের সময়ে শোকর এবং দুঃখ-কষ্টের সময়ে সবর—দুই অবস্থাই মুমিনের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে। তাই জীবনে ছোটখাটো অপ্রাপ্তি, অভাব কিংবা কষ্ট এলে হতাশ না হয়ে মহান আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করা উচিত।

আমাদের সুস্থতা, নিরাপত্তা, পরিবার, সময় ও দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিকতাও অনেক বড় নিয়ামত। এসব হারানোর আগে আমরা অনেক সময় এর মূল্য বুঝতে পারি না। তাই অভিযোগে জিহ্বা ব্যস্ত না রেখে আল্লাহর শোকরে তা সিক্ত রাখা এবং সব অবস্থায় তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করাই মুমিনের কর্তব্য।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সুখে-দুঃখে তাঁর নিয়ামতের শোকর আদায় এবং বিপদে ধৈর্য ধারণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি