স্প্যাম কল ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ, ফোনেই দেখা যাবে কলদাতার আসল পরিচয়

ভারতের টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থা টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অব ইন্ডিয়া (ট্রাই বা TRAI) প্রযুক্তিটি অনুমোদন করেছে। টেলিযোগাযোগ বিভাগের (DoT) সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে দেশজুড়ে এই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
কী এই CNAP প্রযুক্তি?
CNAP-এর পূর্ণরূপ কলিং নেম প্রেজেন্টেশন (Calling Name Presentation)। এটি এমন একটি প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোনে কল আসার সময় কলদাতার মোবাইল নম্বরের সঙ্গে টেলিকম অপারেটরের কাছে নিবন্ধিত নামও দেখা যাবে।
বর্তমানে অজানা নম্বর থেকে কল এলে অনেক সময় কলদাতার পরিচয় জানা যায় না। পরিচয় শনাক্ত করতে অনেকে Truecaller-এর মতো তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার করেন। তবে CNAP চালু হলে এ ধরনের অ্যাপের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে?
CNAP পরিষেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা করে ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করতে হবে না বলে জানানো হয়েছে। সেবাটি চালু হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নেটওয়ার্কে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করবে।
যেসব ব্যবহারকারী কল গ্রহণের সময় নিজের নাম প্রদর্শন করতে চান না, তাঁদের জন্য অপ্ট-আউটের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে টেলিকম অপারেটরের ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সেবা বন্ধ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
কোন কোন ফোনে চালু হবে?
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কে CNAP চালু করা হবে। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে ২জি ও ৩জি নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীদেরও এই সেবার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
CNAP ব্যবহারে কী সুবিধা হবে?
CNAP প্রযুক্তির প্রধান উদ্দেশ্য হলো কলদাতার পরিচয় সম্পর্কে স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং প্রতারণামূলক ফোনকল শনাক্ত করতে সহায়তা করা। ফোন ধরার আগেই নিবন্ধিত নাম দেখতে পাওয়ায় অপরিচিত নম্বর থেকে আসা কল সম্পর্কে ব্যবহারকারীরা প্রাথমিক ধারণা পাবেন।
তবে শুধু নাম প্রদর্শনের মাধ্যমে সব ধরনের প্রতারণা বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। নিবন্ধিত নাম দেখালেও ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং ফোনে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা গোপন সংকেত চাইলে তা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।



