সারাদেশ

কলকাতার হোটেলে আগুন: সাংবাদিক দেবাশীষসহ একই পরিবারের চারজন নিহত

কলকাতায় আগুনে পরিবারসহ পুড়ে মারা যান কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী, আড়াই বছরের ছেলে ও শ্বশুরসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার গভীর রাতে ‘শিখা ইন’ হোটেলে এ আগুন লাগে। ঘটনায় মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত দেবাশীষ দত্ত (৩৮) জাতীয় দৈনিক আজকের পত্রিকা ও চ্যানেল নাইন-এর কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি এবং স্থানীয় দৈনিক আজকের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), ছেলে শর্ণশীষ দত্ত এবং শ্বশুর আকরাম আলী (৬৫) তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বুধবার তাঁদের দেশে ফেরার কথা ছিল।

দেবাশীষের মা স্বপ্না দত্ত জানান, মৃত্যুর আগের রাতে ভিডিও কলে ছেলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। কলকাতা থেকে মা-বাবা ও আট বছরের মেয়ে দিবানীতার জন্য কেনাকাটা করা জিনিসপত্রও দেখিয়েছিলেন দেবাশীষ। তখন কে জানত, সেটিই হবে ছেলের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা।

দেবাশীষের বাবা দিলীপ কুমার বলেন, তাঁর একমাত্র ছেলে পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। ছেলেকে হারিয়ে এখন পরিবার কীভাবে চলবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। আট বছরের দিবানীতা মা-বাবা ও ভাইকে হারিয়ে নির্বাক হয়ে পড়েছে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের ব্যবসায়ী আহম্মেদ বাবু (৩৭)-এর পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে। বাংলাদেশি নিহতদের মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া চলছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহ ফেরানোর খরচ পরিবার বহন করতে না পারলে সরকার বিষয়টি দেখবে বলেও জানান তিনি।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হোটেলটিতে ৯৩ জন পর্যটক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ৮১ জন বাংলাদেশি। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত দুর্বল এবং জরুরি বের হওয়ার পথও বন্ধ ছিল। ফায়ার লাইসেন্স ও ফায়ার অডিট নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন হোটেলটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে এবং শহরের অন্যান্য হোটেলেও ফায়ার অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে এবং তদন্তে কলকাতা পুলিশের একটি বিশেষ তদন্ত দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। হোটেল মালিক বীরেশ্বর মিত্রের খোঁজে অভিযান চালালেও এখনো তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিক দেবাশীষ ও তাঁর পরিবারের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আজকের পত্রিকা পরিবার গভীর শোক জানিয়েছে। তাঁর সহকর্মীরা তাঁকে একজন নিবেদিতপ্রাণ ও সবার প্রিয় সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করেছেন।

ক্যাটাগরি