আন্তর্জাতিক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহত ৯৫; বিদেশি পর্যটকসহ নিখোঁজ ৪০০

আকস্মিক বন্যায় নেপালের নুয়াকোট জেলার ত্রিশুলি বাজারে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর কর্দমাক্ত পানিতে আংশিক ডুবে আছে। ছবি: এএফপি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার দেশটির পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, বন্যায় প্রায় ২৮ জন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী এলাকায় ২৬ পুলিশ সদস্য, ৯ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্য এবং ৪৪ জন সামরিক সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।

এদিকে আকস্মিক বন্যায় প্রায় ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয়। আরও ১১১ জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বুধবার ভোরে চীন সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুওয়া জেলার কয়েকটি গ্রাম আকস্মিক বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে ঘরবাড়ি, সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, ভূমিকম্পের পর তুষারধসের কারণে নদীর প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়ে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হতে পারে।

নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ভোতেকোশি নদীর পানি প্রবল স্রোতে বিভিন্ন এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নেপালি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশ থেকে আসা পানির ঢলে এ বন্যার সৃষ্টি হয়।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে তিব্বত অঞ্চলে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। জলবিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি মহাসড়কও।

উদ্ধারকাজে হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন নেপালি সেনারা। ছবি: সংগৃহীত

নেপালের সেনাবাহিনী দুর্গত এলাকায় হেলিকপ্টার ও প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল পাঠিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ চীনের সঙ্গেও সমন্বয় করে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বন্যার প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী তিব্বতেও। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তবর্তী তিব্বতের গিরং বন্দরে ব্যাপক হতাহত ও বহু মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রায় থাকা প্রায় ৪০০ তীর্থযাত্রীর সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট। তবে তিব্বতে নিহত বা আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি