ঘুম থেকে ওঠার দোয়া ও সুন্নত আমল জেনে নিন

সারা দিনের ক্লান্তি শেষে ঘুম মানুষের শরীর ও মনকে প্রশান্তি দেয়। রাতের ঘুম শেষে সকালে জেগে ওঠা আল্লাহ তায়ালার অন্যতম নেয়ামত। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, ঘুম থেকে জেগে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা এবং নবীজি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শেখানো সুন্নত আমলগুলো পালনের চেষ্টা করা উচিত।
হাদিসে ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর প্রশংসাসূচক দোয়া পড়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেসওয়াক করা, ওজু করা এবং দৈনন্দিন ইবাদতের প্রস্তুতি নেওয়ার মতো আমলও গুরুত্বপূর্ণ।
হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ঘুম থেকে জেগে বলতেন—
‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।’
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর মতো নিদ্রার পর পুনরায় জীবিত করেছেন। আর তাঁরই কাছে আমাদের প্রত্যাবর্তন।
(সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৩৮৫)
ঘুম থেকে ওঠার পর পালনীয় কয়েকটি সুন্নত ও ইসলামি আমল নিচে তুলে ধরা হলো।
১. ঘুম থেকে ওঠার দোয়া পড়া
ঘুম থেকে জেগেই আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা করা উচিত। নবীজি (সা.)-এর শেখানো দোয়াটি পড়ার মাধ্যমে নতুন দিনের জন্য আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়।
দোয়াটি হলো—
আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দামা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।
অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নিদ্রার পর জাগ্রত করেছেন। আর তাঁরই কাছে আমাদের ফিরে যেতে হবে।
২. ঘুমের প্রভাব কাটাতে মুখমণ্ডল মর্দন করা
ঘুম থেকে জেগে মুখমণ্ডলে হাত বুলিয়ে নেওয়ার কথা হাদিসে এসেছে। এতে ঘুমের আড়ষ্টতা কাটিয়ে সতেজ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। নবীজি (সা.)-এর ঘুম থেকে ওঠার আদব অনুসরণে এ আমল করা যেতে পারে।
৩. আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা
ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করা এবং তাঁর প্রশংসা করা মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলা যায়। তবে নির্দিষ্টভাবে তিনবার বলাকে ঘুম থেকে ওঠার বাধ্যতামূলক বা প্রমাণিত সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করার আগে নির্ভরযোগ্য হাদিসের সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন।
৪. ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করা
মুখের পরিচ্ছন্নতা ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। মেসওয়াক করা নবীজি (সা.)-এর সুন্নতগুলোর একটি। ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করলে মুখ পরিষ্কার রাখা যায় এবং ইবাদতের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়।
৫. ওজু করা
ঘুম থেকে ওঠার পর নামাজের প্রস্তুতি হিসেবে ওজু করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ফজরের নামাজ আদায়ের জন্য ঘুম থেকে উঠে পবিত্রতা অর্জন করা প্রয়োজন। ওজুর মাধ্যমে মুসলমান নামাজের জন্য প্রস্তুত হন।
৬. আল্লাহর ক্ষমতা স্মরণ করে দোয়া পড়া
ঘুম থেকে জেগে আল্লাহর ক্ষমতা ও অনুগ্রহ স্মরণ করা যায়। এ সময় আল্লাহর প্রশংসা করে দোয়া করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা উত্তম আমল। তবে দোয়ার আরবি পাঠ ও হাদিসের সূত্র নির্ভরযোগ্য ইসলামি গ্রন্থ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
৭. তাওহিদ ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনার দোয়া পড়া
ঘুম থেকে ওঠার পর আল্লাহর একত্ব ঘোষণা করে জিকির করা এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাওয়ার শিক্ষা হাদিসে রয়েছে। এ ধরনের দোয়ায় আল্লাহর প্রশংসা, তাঁর মহত্ত্ব ঘোষণা এবং তাঁর সাহায্য কামনার বিষয়গুলো উঠে আসে।
দোয়াটির শুরু হলো—
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির।
অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই। তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই। রাজত্ব তাঁরই, সমস্ত প্রশংসাও তাঁর। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।
ঘুম থেকে ওঠার সুন্নত আমল কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইসলামে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কাজেও আল্লাহকে স্মরণ করার শিক্ষা রয়েছে। ঘুম থেকে ওঠার পর দোয়া পড়া, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং নামাজের প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে দিনের শুরুটা ইবাদত ও কৃতজ্ঞতার মধ্য দিয়ে করা যায়।
তাই কোরআন ও বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে আমলগুলো শেখা এবং জীবনে বাস্তবায়ন করাই একজন মুসলমানের জন্য উত্তম।



