অর্থনীতি

টিআইএন আছে, রিটার্ন নেই: ৬২% করদাতা আয়কর রিটার্ন জমা দেননি

ছবি : সংগৃহীত

দফায় দফায় সময়সীমা বাড়ানো হলেও সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের টিআইএনধারীদের বড় একটি অংশ আয়কর রিটার্ন জমা দেননি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, দেশে নিবন্ধিত ১ কোটি ৩০ লাখ টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন। অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ টিআইএনধারী রিটার্ন জমা দেননি।

এনবিআরের তথ্য বলছে, মোট টিআইএনধারীর মাত্র ৩৮ শতাংশ রিটার্ন দাখিল করেছেন। কোভিড-১৯-পরবর্তী ২০২০-২১ অর্থবছরের ব্যতিক্রম বাদ দিলে, গত প্রায় এক দশকে এটি অন্যতম নিম্ন রিটার্ন দাখিলের হার।

যদিও রিটার্ন দাখিলের হার হতাশাজনক, তবুও আয়কর আদায়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৩ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। একই সময়ে এনবিআরের মোট রাজস্ব আদায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকায়। তবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা।

এনবিআরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ব্যাংক হিসাব খোলা, সঞ্চয়পত্র কেনা, জমি নিবন্ধনসহ ৪৫টির বেশি সেবা পেতে টিআইএন প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই শুধু প্রয়োজন মেটাতে টিআইএন নেন। কিন্তু তাদের আয় করমুক্ত সীমার নিচে থাকায় রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন মনে করেন না। এছাড়া অনলাইন ও অফলাইন রিটার্ন দাখিল প্রক্রিয়াকে অনেকেই এখনো জটিল মনে করেন।

কর গবেষক স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, আয়কর আইনের বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের বিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে কর-অনুগত্য বাড়বে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, ব্যাংক ঋণ, এলসি খোলা এবং বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ নিশ্চিত করা হলে আরও বেশি মানুষ রিটার্ন জমা দিতে উৎসাহিত হবেন।

করপোরেট খাতেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার করপোরেট টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ৪২ হাজার প্রতিষ্ঠান রিটার্ন জমা দিয়েছে।

এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এনবিআরকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দিয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে আগের অর্থবছরের তুলনায় ৪৫ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে।

ক্যাটাগরি