রাজধানী ঢাকায় আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) থেকে আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা শুরু

বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এই মেলার আয়োজন করছে দেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন সংগঠন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মেলার টাইটেল স্পন্সর হিসেবে রয়েছে।
পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন ও দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরাই মেলার উদ্দেশ্য।
২০০৭ সাল থেকে শুরু হওয়া বিটিটিএফ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন মেলা। এ আয়োজন শুধু ব্যবসায়ী নয়, সাধারণ মানুষকেও ভ্রমণপ্রবণ ও পর্যটন-বান্ধব করে তুলছে।
টোয়াবের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংগঠনটির নেতারা। রাজধানীর একটি হোটেলে এসংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, এবারের মেলায় মোট ২২০টি স্টল থাকবে। মেলায় অংশ নেবেন মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপসহ ১২টি দেশের প্রতিনিধি ও পর্যটন খাতের দেশি-বিদেশি দুই হাজারের বেশি ব্যবসায়ী। এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর হিসেবে থাকবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। মেলায় প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা। তবে ছাত্রছাত্রী, মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই যোদ্ধাদের জন্য মেলায় প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মেলায় পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানের জাতীয় পর্যটন সংস্থা এবং ট্যুরিজম অ্যাসোসিয়েশন অংশগ্রহণ করছে। মেলায় সেমিনারও অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন সাংস্কৃতিক আয়োজন ও দেশের পর্যটন স্থানের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে। মেলার প্রবেশমূল্যের ওপর বিটিটিএফ পেমেন্ট পার্টনার বিকাশের ক্যাশব্যাক অফার থাকছে।
সংবাদ সম্মেলনে টোয়াবের সভাপতি মো. রাফেউজ্জামান বলেন, ‘এই মেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং জনপ্রিয় পর্যটন মেলা। পর্যটন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও এই খাতের টেকসই উন্নয়ন এই মেলার প্রধান উদ্দেশ্য। আমরা আশা করছি যে এবারের পর্যটন মেলা ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি পর্যটক এবং পর্যটনশিল্প-সংশ্লিষ্ট সবার মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
টোয়াব পরিচালক (বাণিজ্য ও মেলা) মো. তসলিম আমিন শোভন মেলার প্রস্তুতি ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানান।
বিটিটিএফ পর্যটন খাতে দেশি-বিদেশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন ও দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে তুলে ধরার অনন্য মঞ্চ জানিয়ে টোয়াবের পরিচালক বলেন, মেলায় থাকবে ৪টি হলে ২০টি প্যাভিলিয়ন ও ২২০টি স্টল। থাকবে বি-টু-বি সেশন, সেমিনার, কান্ট্রি প্রেজেন্টেশন, প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও দেশের পর্যটন গন্তব্যভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
তিনি আরো বলেন, ‘এবারের অনুষ্ঠানটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর তুলনায় আরো প্রাণবন্ত এবং আকর্ষণীয় হবে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন, পর্যটন পুলিশ এবং এফবিসিসিআইয়ের সহায়তায় এই মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার জেনারেল ম্যানেজার অশ্বিনী নায়ার, রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর শাহিদ হামিদ, টোয়াবের প্রথম সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, টোয়াবের সহ-সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন, টোয়াবের সদ্য সাবেক সভাপতি শিবলুল আজম কোরেশী প্রমুখ।




