উত্তরায় রাজউকের প্লট দেওয়ার নামে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ, আসামি কারাগারে

রাজধানীর উত্তরায় রাজউকের প্লট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মঞ্জুরুল আলম নামের এক আসামিকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বাদী মো. নাছির প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী। আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ঢাকায় জমি কেনাবেচার যৌথ ব্যবসা করতেন তিনি। মৌখিক চুক্তি অনুযায়ী, জমি বিক্রির পর অর্জিত লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ বাদী এবং বাকি ৫০ শতাংশ আসামিদের পাওয়ার কথা ছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় আসামিরা নাছিরকে জানান, উত্তরায় রাজউকের একটি আকর্ষণীয় পাঁচ কাঠার প্লট রয়েছে। প্লটটি ৫ থেকে ৬ কোটি টাকায় কিনে পরবর্তী সময়ে ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব বলে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে ২০২৩ সালের ১ আগস্ট নাছির উত্তরায় প্লটটি পরিদর্শন করেন। পরে জমির বায়না ও রেজিস্ট্রির কথা বলে বিভিন্ন সময়ে পে-অর্ডার ও নগদে তাঁর কাছ থেকে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা আসামি রাফিন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. রবিউল আলম এবং মঞ্জুরুল আলমের অনুকূলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া রফিকুল ইসলাম, মো. আনিছুর রহমান মিঞা হাসচিব, হাসনা হেনা ও আসিফ হাসান তুলিসহ অন্য কয়েকজনের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে নগদ টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা নেওয়ার পরও বাদীকে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে আসামিরা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা বাদীর ফোন ধরা বন্ধ করে দেন এবং উত্তরার ১৬ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত অফিস তালাবদ্ধ করে চলে যান।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে আসামিরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। ওই দিন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশে তদন্ত শেষে সিআইডি চলতি বছরের ৩০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। মামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে বলে মামলার বিবরণে বলা হয়েছে।
এদিকে, মঞ্জুরুল আলমের বিচার দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় বক্তারা অভিযোগে উল্লেখিত চক্রের অন্য সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।



