ধর্ম

নিরপরাধ মানুষ হত্যা নিয়ে কোরআনে কী বলা হয়েছে?

ছবি : সংগৃহীত

মানুষের জীবন অমূল্য। একটি প্রাণের মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ও সম্ভাবনার অবসান ঘটে না, সমাজেও তৈরি হয় গভীর ক্ষত। ইসলামে অন্যায়ভাবে মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়াকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিরপরাধ মানুষের জীবন রক্ষা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যার ভয়াবহতা, এর পরিণতি এবং মানবজীবনের মর্যাদা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা মানুষকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকা এবং অন্যের জীবনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার শিক্ষা দেয়।

পবিত্র কোরআনের সুরা ফুরকানে আল্লাহর প্রিয় বান্দাদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলা হয়েছে, তাঁরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্য হিসেবে ডাকে না এবং যথার্থ কারণ ছাড়া এমন কোনো প্রাণ হত্যা করে না, যাকে হত্যা করা আল্লাহ হারাম করেছেন।

এ ধরনের অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে এবং তারা লাঞ্ছিত অবস্থায় জাহান্নামে থাকবে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘আর তারা আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকে না এবং আল্লাহ যে প্রাণকে হত্যা করা হারাম করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত ৬৮)

এই আয়াতের মাধ্যমে অন্যায়ভাবে প্রাণ নেওয়ার ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষা ইসলামে শুধু সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্বেরও অংশ।

মানবজীবনের গুরুত্ব বোঝাতে পবিত্র কোরআনের সুরা মায়িদার ৩২ নম্বর আয়াতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বনি ইসরাইলের প্রতি দেওয়া বিধানের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কেউ যদি হত্যার বদলা নেওয়া কিংবা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার মতো বৈধ কারণ ছাড়া কাউকে হত্যা করে, তবে সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর কেউ একজন মানুষের প্রাণ রক্ষা করলে, সে যেন সমগ্র মানবজাতির প্রাণ রক্ষা করল।

এই আয়াত মানুষের জীবনের অসামান্য মূল্য তুলে ধরে। একজন নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া যে কত বড় অন্যায়, তা এখানে স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে। একইভাবে মানুষের জীবন রক্ষা করাকে মানবকল্যাণের মহান কাজ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামে অন্যায় হত্যার পরিণতি শুধু দুনিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; আখিরাতেও এ অপরাধের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ কিংবা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে নিরপরাধ মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

অপরাধের বিচার ও শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের পরিবর্তে বৈধ বিচারব্যবস্থা অনুসরণ করা জরুরি। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার রক্ষার মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

ইসলাম মানুষকে শুধু অপরাধ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় না; বরং সহমর্মিতা, মানবিকতা, ন্যায়বিচার ও শান্তির চর্চায়ও উদ্বুদ্ধ করে। অন্যের জীবনের মর্যাদা উপলব্ধি করা এবং সহিংসতা পরিহার করা প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব।

একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, নিরপরাধ ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সচেতন ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। মানুষের জীবন ও মর্যাদা রক্ষার মধ্য দিয়েই ইসলামের এই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে পারে।

ক্যাটাগরি