আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, বন্ধ হবে সব তেল রপ্তানি

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের আর্থিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই পদক্ষেপের আওতায় আনা হতে পারে। এর পাল্টা জবাবে ইরান হুমকি দিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক আক্রমণের ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্যের পর ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দর রেকর্ড পর্যায়ে নেমে যায়। খোলাবাজারে এক ডলারের দাম প্রায় ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছায়।

ইরানও পাল্টা কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চললে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করা হবে না—হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়েও নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পদক্ষেপে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে ইরান যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচনা করবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে তাদের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৫টি জাহাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বাধা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাঁর সফর আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা জোরদারের প্রচেষ্টার অংশ। পাকিস্তানি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, সফরে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মুনিরকে ফোন করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর অনুরোধ করেছিলেন বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও ইরান সফরের কথা রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে।

এদিকে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে পশ্চিমে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজের মূল ডেকে আগুন ধরে যায়। তবে হামলার জন্য এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দায়ী করা হয়নি।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন চাপের বিষয়ে চীনও বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল সমস্যার সমাধান করবে না। ইরানের তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা চীন নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আর্থিক চাপ, ইরানের পাল্টা তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ফিন্যান্সিয়াল বার্তা/এইচ

ক্যাটাগরি