কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: আইফোন ছিনতাই ও ধর্ষণের পর হত্যার রহস্য উন্মোচন

কুমিল্লার লালমাইয়ে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া কর্তৃক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া এসব তথ্য জানান।
যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক ঘটনা
পুলিশ জানায়, কিশোরী স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন গত ৮ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টায় কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড তিশা কাউন্টারে নামে। সেখান থেকে নগরের রেইসকোর্স এলাকায় নিজ ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য ৩০০ টাকায় একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া করেন তিনি। গাড়িতে ওঠার পর তিনি চালক সুমনকে দিয়ে কলা ও রুটি কেনান।
বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক সুমন তাকে রেইসকোর্সে না নিয়ে উল্টো চাঁদপুর সড়কে চলে যান। এরপর লাকসামের বিজরা বাজার হয়ে পুনরায় লালমাইয়ের জগতপুর এলাকায় ফিরে আসেন। প্রায় দুই ঘণ্টা সময় অতিবাহিত হওয়ার পর জগতপুরে এসে অটোরিকশাটি বন্ধ করে দেন সুমন।
জায়গাটি রেসকোর্স কি না—তা জানতে চাইলে চালক জানান এটি অন্য এলাকা। এতে ভয় পেয়ে কিশোরী গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন এবং সঙ্গে থাকা গামছা দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরেন।
যেভাবে নিশ্চিত করা হয় মৃত্যু
ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে কিশোরী দুর্বল হয়ে পড়লে সুমন তাকে ধানক্ষেতে নিয়ে যান এবং ধর্ষণের পর মাটিতে উপর করে শুইয়ে মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর ভিকটিমের হ্যান্ডব্যাগ থেকে আইফোনটি নিয়ে ব্যাগটি ধানক্ষেতেই ফেলে দেন।
হত্যাকাণ্ড শেষে আসামি সুমন ঘটনাস্থলেই সিএনজিটি ফেলে কাচিকাটা মসজিদের সামনে পুকুরে গোসল করেন। এরপর আরেকটি ভাড়ায় চালিত সিএনজিতে করে বাখরাবাদ এলাকায় যান এবং সেখানে পুকুরপাড়ের জঙ্গলে নিহত ছাত্রীর আইফোনটি লুকিয়ে রেখে পালিয়ে চট্টগ্রামে চলে যান।
মরদেহ উদ্ধার ও মামলা
এর আগে গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের চার-পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছ এলোমেলো অবস্থায় ছিল, যা দেখে ধারণা করা হয় প্রাণ বাঁচাতে বাঁচার জন্য মরিয়া হয়ে দৌড়েছিলেন ওই ছাত্রী।
এ ঘটনায় নিহত তাজমিনের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও দ্রুত অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে প্রধান অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করে এবং তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাখরাবাদ এলাকার জঙ্গল থেকে ভিকটিমের আইফোনটি উদ্ধার করে।



